Logo
প্রচ্ছদ কাহিনি
সমসময়
আলাপচারিতা
বিশ্লেষন
অনুসন্ধান
প্রতিবেদন
মিডিয়াওয়াচ
প্রবাস জীবন
অন্যভূবন
ধারাবাহিক
আত্মজীবনী
অন্যদেশ
রঙ্গের দুনিয়া
খেলা খেলা নয়
দুই পা ফেলিয়া
আয়োজন
 
  সমসময়

লাগাতার হরতাল, প্রণবের ঢাকা সফর ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাহীনতা

মাহফুজ মিশু

কথা রেখেছেন প্রণব মুখার্জি। ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশেই করলেন তিনি। টানা তিন দিন। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে অকৃত্রিম এই বন্ধুকে মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানাল কৃতজ্ঞ জাতি। সেই সম্মাননা গ্রহণ করে আবেগাপ্লুত প্রণব বললেন, সব সময়ই পাশে থাকবেন বাংলাদেশের। একাত্তরের মতোই ২০১৩ সালে সব সংকটে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে চায় তার দেশ। বলেছেন, এই অঞ্চলের অভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের ধারক-বাহক প্রতিবেশী এই দুই দেশ। প্রণব মুখার্জি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ মন্ত্রী, প্রতিরÿামন্ত্রী এবং সবশেষ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তখনো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপÿীয় সম্পর্ক উন্নয়নে অভিভাবকের মতো কাজ করেছেন তিনি। এবারের সফরের বিশেষত্ব অনেক। প্রবীণ এই রাজনীতিক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সফর। তার চেয়েও বড় কথা, সাম্প্রতিক সময়ের কোনো সফরেই (মন্ত্রী থাকা অবস্থায়) তিনি তিন দিনের জন্য বাংলাদেশে আসেননি। ফলে সময়ের হিসেবেও এই সফর ঐতিহাসিক। প্রণবকে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশকেই কেবল কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেনি, আবারও স্মরণ করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বন্ধুসুলভ ভূমিকাকে। সেই সঙ্গে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও প্রদান করেছে। সমাবর্তন বক্তৃতায় ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের তারুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, এই দৃপ্ত আর চেতনাদীপ্ত তারুণ্যই বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে অপার সম্ভাবনার পথে। বলে রাখা ভালো, শাহবাগে তারুণ্যের যে জাগরণ চলছে, তা নিয়েও আগ্রহ ছিল প্রণব মুখার্জির। তিনি নিজে না যেতে পারলেও, শাহবাগ প্রতিবাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। বোঝার চেষ্টা করেছেন তারুণ্যের দাবিকে। জানিয়েছেন, অহিংস, শান্তিপূর্ণ এবং যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্ত্মির দাবিতে চলমান এই আন্দোলন সমর্থন করে তার দেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আরেকটি জরুরি বিষয়ের অবতারণা করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। বলেছেন, দারিদ্র্য বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের জন্যই বড় সমস্যা। এককভাবে, এই সমস্যা আজকের বিশ্বে আর মোকাবিলা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তা প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান ছিল ভারতীয় রাষ্ট্রপতির। সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা আর সীমান্ত নিরাপদ করার চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তিন দিনের সফরের শেষ দিনে নড়াইল গেছেন বাংলাদেশের জামাই বাবু প্রণব। রাষ্ট্রপতি জামাইকে সানন্দে বরণ করেছে নড়াইলবাসী। প্রণব ছুটে বেড়িয়েছেন নড়াইল থেকে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িতে। সেখান থেকে টাঙ্গাইলের ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শন। ব্যস্ত সময় কাটিয়ে ৫ ফেব্রম্নয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা ছেড়েছেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেড় ঘন্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। শেখ হাসিনা তথা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে মুখার্জি পরিবারের ঘনিষ্ঠতা বহু পুরোনো। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে অভিভাবকের মতো দাঁড়িয়েছিল মুখার্জি পরিবার। প্রচলিত আছে, প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি মায়ের মতো স্নেহে তখন আগলে রেখেছিলেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে। প্রণব-হাসিনা শীর্ষ বৈঠকে আবারও আশ্বাস মিলেছে, ভারতের লোকসভার চলতি অধিবেশনেই পাস হচ্ছে স্থলসীমা নির্ধারণ চুক্তি। আর বহুল আলোচিত তিস্ত্মার পানিবন্টন চুক্তিও শিগগিরই সই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রণব। সীমান্তে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে তা বন্ধে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি ছাড়াও প্রণব বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে। সমকালীন বাংলাদেশের রাজনীতির হালহকিকত, হঠাৎ করেই জামায়াত-শিবিরের বাড়াবাড়ি সহিংসতা, যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার, আগামী নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে ধারণা নিয়েছেন উপমহাদেশের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এরশাদ জানিয়েছেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় ভারত। তবে কীভাবে তা নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি প্রণব, বরং পথ খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন এখানকার রাজনীতিকদের। এত গুরুত্বপূর্ণ আর আন্তরিক সফরটি শেষ পর্যন্ত কলঙ্কিত হয়ে রইল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল করায়। প্রণব যেদিন ঢাকা এলেন, তার পরদিন বিকেলে সোনারগাঁও হোটেলে দেখা করার কথা ছিল তাদের। ঠিক এক দিন আগে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সেই কর্মসূচি বাতিল করেন খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে বিএনপির তরফ থেকে যে ব্যাখ্যা এসেছে, তা রীতিমতো হাস্যকর। খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের দিন জামায়াত-শিবিরের ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচি ছিল। সেই হরতালে খালেদা জিয়া নিরাপদ বোধ করছেন না, সে জন্যই তিনি প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ বাতিল করলেন। শোনা যায়, জামায়াতের লোকজন রাগ করতে পারেন, তাদের চলা হরতালে গাড়ি নিয়ে দেখা করতে গেলে- এই অজুহাতে সেই কর্মসূচি বাতিল করেছেন তিনি। মনে পড়ে, মাত্র কয়েক মাস আগে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করে এলেন খালেদা জিয়া। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তার পাশাপাশি উষ্ণ অর্ভ্যথনা জানিয়েছিলেন এই প্রণব মুখার্জি। প্রচলিত আছে, প্রণবের উদ্যোগেই খালেদা জিয়ার সেই সফরটি হয়েছিল। সে সময় দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা করে তাকে ঢাকা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। পরবর্তীকালে প্রণবের ঢাকা সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার অ্যাপয়নমেন্ট চাওয়া হয়। বিরোধীদলীয় নেতা সানন্দে রাজি হন। নির্ধারিত হয় বৈঠকের দিনক্ষণ। অবশ্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারেও বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেনের উপসহকারী মন্ত্রী, যারা এলে আমাদের দেশের অতিরিক্ত বা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার তাদের জন্যও সময়ের কোনো অভাব হয় না খালেদা জিয়ার। আর প্রণব তো কেবল একজন রাষ্ট্রপতি নন, সব সংকটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো পরীক্ষিত এক বন্ধু। তার সঙ্গে এমন আচরণ কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লংঘনই নয়, অতিথিপরায়ণ হিসেবে সুনাম থাকা বাংলাদেশিদের ইমেজের জন্যও কালিমা লেপন। প্রণবের সফরের শেষ দিনে দীপু মনির সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার এ রকম আচরণ প্রসঙ্গে ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয়েছে মন্ত্রীকে। এমনিতেই বাংলাদেশে অবস্থানকালীন পুরোটা সময় হরতাল আর সহিংসতা দেখতে হয়েছে প্রণবকে। যুদ্ধাপরাধী ঘাতকদের বাঁচাতে জামায়াতের হরতালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসূচি দিলেও প্রণবের সঙ্গে বৈঠকের নির্ধারিত দিনে মাত্র ঘন্টা খানেকের জন্য ঢাকার হরতাল কি শিথিল করা যেত না? মানে বলতে চাইছি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যদি চাইতেন, তাহলে কি জামায়াতের হরতাল শিথিল হতো না? আমার ধারণা, উনি চাইলেই পারতেন। কিন্তু ভিন্নমতও আছে। অনেকের আশংকা, জামায়াত এখন আর বিএনপির কথা শোনে না, বরং উল্টোটি হচ্ছে। হয়তো তাই, ভারতে গিয়ে দাওয়াত দিয়ে এসেও ঢাকায় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন না জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। আবারও ভুল বার্তা দিল বিএনপি, তৈরি হলো বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন বিভ্রান্তি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নয়, ভারত সব দল তথা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের যে বার্তা দিচ্ছিল, আবারও হোঁচট খেল তা। এর বাইরে জামায়াতের হরতালের দিন সোনারগাঁওয়ের সামনে ককটেল-জাতীয় কিছু একটার বিস্ফোরণ নতুন আতংক ছড়িয়েছে। কারণ, ওই মুহূর্তে হোটেলেই অবস্থান করছিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রপতি। যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে আসা কেউ সেটির শব্দও শোনেনি। তবু এনডিটিভিসহ ভারতীয় গণমাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশনগুলো বিষয়টা ফলাও করে প্রচার করেছে। দুঃখজনক ঘটনা, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি সরকার। বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল প্রকৃত ঘটনা অবহিত করে একটি প্রেস রিলিজ ইস্যু করা। তাতে মানুষের আতংক যেমন কমত, তেমনি বিদেশি গণমাধ্যমও সঠিক বার্তাটি পেতে পারত। অবশ্য এ ক্ষেত্রে আবারও পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে ভারত। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতি প্রণব বা ভারতীয় প্রতিনিধিদলের ওপর হামলা নয়। তারা সবাই সুস্থ আছেন। কিন্তু এই কাজটি আরও আগে বাংলাদেশ সরকারই করতে পারত। সব মিলিয়ে প্রণবের বাংলাদেশ সফরের অর্জন অনেক। যদিও আমরা জানি, রাষ্ট্রপতির কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। কিন্তু তিনি তো আর কেবল রাষ্ট্রপতিই নন, ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সবচেয়ে সিনিয়র নেতা, যার হাত দিয়েই রাজনীতিতে এসেছেন সোনিয়া গান্ধী। বাংলাদেশ-ভারত তথা এই উপমহাদেশের নানান সংকটের অভিভাবক তিনি। কাজেই তিনি চেষ্টা করলে বা আরও আন্তরিক হলে অমীমাংসিত অনেক ইস্যুই সমাধানের পথ অনেক মসৃণ হতে পারে। রাষ্ট্র তথা সরকারের পক্ষ থেকে প্রণবের আতিথেয়তার কিংবা আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না। প্রণবও খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন, একাত্তরের মতোই এখনো সব সংকটে পাশে থাকবে ভারত। কিন্তু 'বিচ্ছিন্ন' ওই একটি ঘটনা কি অনেক বেশি ভুল বোঝার সুযোগ করে দিল না প্রণবকে, ভারতের সরকার কিংবা রাজনীতিকদের?

লেখক : সংবাদকর্মী।

  চলতি সংখ্যা  
   
  সর্বশেষ সংবাদ  
›› ডা. ইমরান এইচ সরকার এঙ্ক্লুসিভ 'মুক্তিযুদ্ধ কারও ব্যক্তিগত বা দলীয় বিষয় নয়' 'খালেদা জিয়ার কাছে আশাটা বেশি ছিল, যেহেতু তিনি একাত্তরের বীরাঙ্গনা' 'স্বাচিপের নেতা তো নই-ই, সদস্যও না'
›› লাগাতার হরতাল, প্রণবের ঢাকা সফর ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাহীনতা
›› বিদায় শাভেজ! মৃত্যুতেও অপরাজেয় তুমি
›› আবাসন খাতে জামায়াত নেটওয়ার
›› ৫৬ বছর পর প্রণব বাবু এলেন শ্বশুরবাড়ি ছিলেন ৩৫ মিনিট
›› নারীর উন্নয়নের নামে এনজিওর প্রজেক্টনির্ভর প্রেম
   
 
 
পুরনো সংখ্যা