Logo
প্রচ্ছদ কাহিনি
সমসময়
আলাপচারিতা
বিশ্লেষন
অনুসন্ধান
প্রতিবেদন
মিডিয়াওয়াচ
প্রবাস জীবন
অন্যভূবন
ধারাবাহিক
আত্মজীবনী
অন্যদেশ
রঙ্গের দুনিয়া
খেলা খেলা নয়
দুই পা ফেলিয়া
আয়োজন
 
  অনুসন্ধান

আবাসন খাতে জামায়াত নেটওয়ার্ক

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী শক্তি এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে নানাভাবে নিজেদের শিকড় গেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় জামায়াতে ইসলামী নিজেদের কর্মকাণ্ডের ব্যয়ভার বহন করার জন্য গড়ে তুলছে ব্যাংক-বীমা, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লিনিক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরেই তারা দলের দায়িত্বশীলদের নামে-বেনামে বিনিয়োগ করছে। জনগণকে নিজেদের ঘাটে ভেড়াতে 'ইসলাম' শব্দটি নিয়ে সেবার অন্তরালে ব্যবসা করছে এই প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে উঠছে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যম। ব্যবসার অন্তরালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। বুঝে ও না বুঝে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন করছে সাধারণ মানুষ, জনগণের টাকায় মিটছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান। জামায়াত-শিবিরের করপোরেট নেটওয়ার্কের ফাঁদে আটকে যাচ্ছে আমাদের অর্থ ও নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। আবাসনশিল্পও বাদ যাচ্ছে না জামায়াতের নেটওয়ার্ক থেকে। এই খাতেও সমানভাবে সক্রিয় জামায়াত-শিবির গোষ্ঠী। আবাসন খাতে সক্রিয় জামায়াত নেটওয়ার্ক নিয়ে চলমান অনুসন্ধানকালে মিলেছে নানা তথ্য। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে জড়িত নেতা-কর্মী থেকে সমর্থক পর্যন্ত অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন আবাসনশিল্পের সঙ্গে। অনুসন্ধানকালে গণজাগরণ মঞ্চ, স্লোগান ৭১ ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের বেশ কিছু স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। জামায়াত-শিবিরের আবাসন খাতের করপোরেট নেটওয়ার্ক নিয়ে শরিফুল ইসলাম পলাশ-এর অনুসন্ধানের চতুর্থ পর্ব যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী এবার 'ইসলাম' শব্দটিকে পুঁজি করে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে পড়ে। কখনো ট্রাস্ট, কখনো গ্রুপ, কখনো বা ব্যক্তিমালিকানায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা। বছরের পর বছর ধরে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে এই বাংলাদেশে আর্থসামাজিকভাবে বেশ শক্ত অবস্থানে এসেছে এই অপশক্তি। ব্যাংকিং, বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পর এবার সাপ্তাহিক কাগজ-এর আয়না ও আতশ কাচে জামায়াত-শিবিরের আবাসন খাতের করপোরেট নেটওয়ার্ক। অনুসন্ধানের শুরুতে জামায়াতের বিভিন্ন সেবাপ্রতিষ্ঠানের স্পন্সর, নিয়মিত গ্রাহকতালিকা, গণজাগরণ মঞ্চ, স্লোগান ৭১ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে আবাসন খাতে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-শিবির চক্রের প্রায় এক ডজন প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় এসেছিল। গণজাগরণ মঞ্চ, স্লোগান ৭১ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র আবাসন খাতের কোরাল রিফ, মিশন ডেভেলপারস, লালমাটিয়া হাউজিং, ওয়ান সিটি, বিশ্বাস বিল্ডার্স, পিংক সিটি, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন, কেয়ারী হোল্ডিংস, ইনটিমেট হাউজিং, সোনারগাঁও হাউজিং, মেট্রো হোমস লিমিটেড, ক্রিসেন্ট হোল্ডিংস, দারুল ইসলাম হাউজিং, রিলায়েন্স হোল্ডিংস লিমিটেড, রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগের আঙুল তোলে। জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা, জামায়াত-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন, জামায়াত-নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল থেকে নিয়মিত সেবা গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারির ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়ার পর চলমান জামায়াত-শিবিরের করপোরেট নেটওয়ার্ক-শীর্ষক অনুসন্ধানের তৃতীয় পর্বে আবাসন খাতের স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান আলবদর নেতা মীর কাসেম আলীর কেয়ারী ডেভেলপারস লিমিটেড, কাদের মোল্লার আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খানের মিশন গ্রুপের মিশন ডেভেলপারস লিমিডেট, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য একেএম নুরুন্নবীর ক্রিসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড ও জামায়াতের তহবিল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান মেট্রো হোমস লিমিটেড ও পিংক সিটি লিমিটেডের জামায়াত কানেকশন তুলে ধরা হয়েছে। আবাসন খাত নিয়ে দ্বিতীয় দফার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও কিছু রিয়েল এস্টেট কোম্পানির নাম। আবাসন খাত নিয়ে যাতে নতুন করে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, তাই স্পর্শকাতর এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়ার পরই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্রিসেন্ট মিশন ডেভেলপারস, ক্রিসেন্ট হোল্ডিংস, কেয়ারী লিমিটেড এবং মেট্রো হোল্ডিংসের জামায়াত-শিবির কানেকশনের নানা দিক উঠে আসে কাগজ-এ। সূত্র জানায়, ক্রিসেন্ট হোল্ডিংস, কেয়ারী রিয়েল এস্টেট, পিংক সিটি, মেট্রো গ্রুপের মেট্রো হোমস লিমিটেড ও মিশন গ্রুপ ছাড়াও আবাসন খাতের এবং মেট্রো গ্রুপের মেট্রো হোমস লিমিটেডের বিরুদ্ধেও জামায়াত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। বিশ্বাস বিল্ডার্স, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, ইনটিমেট হাউজিং, সোনারগাঁও হাউজিং, দারুল ইসলাম হাউজিং, রিলায়েন্স হোল্ডিংস লিমিটেড, রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আঙুল নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে মিলেছে আরও তথ্য। আবাসন খাতের ডজন খানেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও আবাসন খাতের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন রিহ্যাবের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। তবু নড়েচড়ে বসেছে রিহ্যাব। আবাসান খাতকেও যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠানমুক্ত করতে বিহ্যাবের পক্ষ থেকে জামায়াতের চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরির কাজ চলছে। রিহ্যারের নিজস্ব অনুসন্ধানের পর এরই মধ্যে ক্রিসেন্ট হোল্ডিংস, কেয়ারী রিয়েল এস্টেট, মেট্রো গ্রুপের মেট্রো হোমস লিমিটেড, মিশন গ্রুপ, দারুল ইসলাম হাউজিং, রিলায়েন্স হোল্ডিংস লিমিটেড, রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগের আঙুল তুলেছে। সূত্রগুলো বলছে, বিহ্যাবের নিজস্ব প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়ার পরই এই ৭টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তদন্ত চলছে। শিগগিরই তদন্ত শেষ করে জামায়াতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ নিয়ে স্পষ্টভাবে কেউ মুখ না খুললেও রিহ্যাবের একাধিক সূত্র আবাসন খাতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করার কথা নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তদন্ত শেষ হওয়ার পরই রিহ্যাব এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে বলে জানা গেছে। বঙ্

জামায়াত-শিবিরের আবাসন খাতের নেটওয়ার্ক

১. কেয়ারী ডেভেলপারস লিমিটেড

২. মিশন ডেভেলপারস গ্রুপ

৩. ক্রিসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড

৪. মেট্রো হোমস লিমিটেড

৫. দারুল ইসলাম হাউজিং

৬. রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস

৭. বিশ্বাস বিল্ডার্স

৮. আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন

৯. পিংক সিটি লিমিটেড

১০. সোনারগাঁও হাউজিং

১১. ইনটিমেট হাউজিং

১২. রিলায়েন্স হোল্ডিংস লিমিটেড

অনুসন্ধানকালে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আমরা কথা বলি উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে। আলাপকালে মুখে মুখে অনেকেই জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলে বহু যুক্তি দেখালেও কেউই লিখিতভাবে বক্তব্য জানাতে রাজি হননি। বরং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা 'মিটিংয়ে' বা 'একটু পরে ফোন করছি' বলে নানাভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

  চলতি সংখ্যা  
   
  সর্বশেষ সংবাদ  
›› ডা. ইমরান এইচ সরকার এঙ্ক্লুসিভ 'মুক্তিযুদ্ধ কারও ব্যক্তিগত বা দলীয় বিষয় নয়' 'খালেদা জিয়ার কাছে আশাটা বেশি ছিল, যেহেতু তিনি একাত্তরের বীরাঙ্গনা' 'স্বাচিপের নেতা তো নই-ই, সদস্যও না'
›› লাগাতার হরতাল, প্রণবের ঢাকা সফর ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাহীনতা
›› বিদায় শাভেজ! মৃত্যুতেও অপরাজেয় তুমি
›› আবাসন খাতে জামায়াত নেটওয়ার
›› ৫৬ বছর পর প্রণব বাবু এলেন শ্বশুরবাড়ি ছিলেন ৩৫ মিনিট
›› নারীর উন্নয়নের নামে এনজিওর প্রজেক্টনির্ভর প্রেম
   
 
 
পুরনো সংখ্যা